সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন সুনামগঞ্জে ৬ মাসে প্রাণ গেছে ৫৩ জনের ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী “সবচেয়ে মিষ্টি গান সেগুলোই, যা সবচেয়ে দুঃখের কথা বলে” মিয়ারচর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন দিরাইয়ে এসএসসিতে সেরা বালিকা বিদ্যালয়, পিছিয়ে রয়েছে রফিনগর হাওরাঞ্চলে গরু চুরির হিড়িক, এক মাসে অর্ধশতাধিক গরু চুরি জুলাইয়ে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ জীবিত থাকতে পায়নি, মৃত্যুর পর আইসিইউতে হাম-আক্রান্ত শিশু- অভিযোগ বাবা-মায়ের ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী : জনকল্যাণে অনন্য পথিকৃৎ ভারতীয় মদসহ কথিত সাংবাদিক লিটন আটক ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার বোকা নদীর সেতুতে ঝুলছে ডাম্প ট্রাক, চালক পলাতক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার, গুয়াহাটি ক্যাম্পে মানবেতর জীবন সুনামগঞ্জের যুবকের বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে সাহিত্য আড্ডা দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

সময় গেলেও হয়নি পিআইসি, হাওরে শঙ্কা

  • আপলোড সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৩:০১:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৩:১০:৪১ পূর্বাহ্ন
সময় গেলেও হয়নি পিআইসি, হাওরে শঙ্কা
বিশ্বজিত রায়, হাওর থেকে ফিরে ::
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ কার্যক্রমে মন্থর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। এখনও শেষ হয়নি জরিপ ও প্রাক্কলনের কাজ। হাওরের অনেক জায়গা বাঁধ করার উপযোগী মনে হলেও বিলম্বিত কাজে যথাসময়ে শেষ না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ‘দুর্যোগ’ ঘনিয়ে আসলে মহাবিপদ নেমে আসবে হাওরে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরুর কথা বললেও বাস্তবতা তেমনটা মনে হয়নি।
শুক্রবার তাহিরপুরের শনির হাওর এবং জামালগঞ্জের হালি হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরের কোনো কোনো জায়গা দিয়ে পানি নামছে নদীতে। তবে অধিকাংশ বাঁধ এলাকায় কাজ শুরু করার মতো উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শনির হাওরের সাহেবনগর, জালালপুর, নয়ানগর, মারালা, ইগ্রামপুর, নিশ্চিন্তপুর, মুরাদনগর, শ্রীপুর হয়ে তাহিরপুর পর্যন্ত যেসব জায়গায় প্রতি বছর বাঁধের কাজ হয়, সে জায়গাগুলোতে বাঁধের কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো কোনো আলামত চোখে পড়েনি। শুধু তাই না, হালি হাওরের একাংশ ঘুরে একই রকম পরিস্থিতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জ বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। ওই বোরো ফসল হাতছাড়া হলেও দুঃখের সীমা থাকে না এখানকার মানুষের। টেকসই ঝুঁকিমুক্ত বাঁধই পারে একফসলী বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখতে। এর মধ্যে বাঁধের কাজে ব্যত্যয় ঘটলে গোটা হাওরাঞ্চল ঝুঁকিতে পড়বে বলছেন অনেকে।

সরেজমিনে কথা হয় তাহিরপুরের শনির হাওর পারের নয়ানগর গ্রামের কৃষক বাপ্পি মিয়ার সাথে। বাঁধের প্রাক্কলন-জরিপের কাজ হয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমরার গেরামের আশেপাশে প্রতি বছরই পিআইসিরা বাঁধের কাজ করে। এই বছর জরিপের কাজ এখনও হইছে না, কয়দিনের মধ্যে হয়তো করব। সয়ম তো চইল্যা যাইতাছে (চলে যাচ্ছে)। তাড়াতাড়ি কাজ না করলে তো পরে আমরার দৌড়াদৌড়ি করন লাগে।’
জানা যায়, ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জে ভয়াবহ হাওর বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ওই বছর ফসল রক্ষা বাঁধ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। সেই দুর্নীতি ঠেকাতে নতুন কাবিটা নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার। এ নীতিমালার আলোকে বিলুপ্ত হয় পূর্বের ঠিকাদারি প্রথা। হাওরপাড়ের কৃষিজীবী মানুষের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে বাঁধের কাজ এগিয়ে নেওয়ার নতুন নির্দেশনা জারি করা হয় নীতিমালায়। কিন্তু ফসল রক্ষা বাঁধ কাজে এখনও পুরোনো প্রথাই বলবৎ আছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন হওয়ার কথা। ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা বলা আছে নীতিমালায়। কিন্তু পিআইসি গঠন দূরের কথা, এখন পর্যন্ত প্রাক্কলন ও জরিপের কাজই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের মাঝে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার ও মেরামতে এ বছর প্রায় ৬৯০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হতে পারে। এ কাজে প্রাথমিক বরাদ্দ হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। জেলার ৯৫টি হাওরের মধ্যে বাঁধের কাজ হবে ৫৩টি হাওরে। চলতি বছরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বাঁধ এলাকায় সংস্কার ও মেরামতের কাজ হবে। ধর্মপাশা ও শাল্লায় বাঁধের কাজ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পাউবো।

শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি তরুণ কান্তি দাস বলেন, ২০১৭ সালের প্রলঙ্করী হাওর বিপর্যয়ের পর বড় ধরনের কোন দুর্যোগ আসেনি। যে কারণে বাঁধ হওয়া না হওয়া নিয়ে তেমন প্রভাব পড়েনি। যদি অকাল বন্যা পেয়ে বসে তাহলে কৃষকের সর্বনাশ হবে। এখনও প্রাক্কলন-জরিপের কাজই চলছে। কাজের এই মন্থর গতি বিপদে ফেলতে পারে হাওরবাসীকে।

বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জের সহ-সভাপতি খায়রুল বশর ঠাকুর খান বলেন, কৃষক এখন বীজ ধান ফেলায় ব্যস্ত। এখনও মূল জমিনের কাজ শুরু করেনি। এ মুহূর্তে বাঁধের কাজ নিয়ে কৃষকের তেমন ভাবনা নেই। তবে সময় মেনে কাজ করলে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে। কাগজেপত্রে দায়িত্ব পালনের যে বিষয়টা আছে সংশ্লিষ্টদের সেটা মানা দরকার। বিলম্বিত সময়ে কাজ শুরু হলে পরবর্তীতে শেষ হতেও বিলম্ব হয়। তখন হাওর ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।

পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া চলমান আছে জানিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেনহাওরে এখন পর্যন্ত ৮৬টি ক্লোজার (বাঁধের বড় ভাঙা) শনাক্ত করা হয়েছে। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জেলার ১১০০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বাঁধে জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। প্রাক্কলনের কাজও আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত হবে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন

সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন